শীতের সময় বা আবহাওয়ায় পরিবর্তনের কারনে আমাদের কম বেশি সকলেরই সর্দি কাশি হয়ে থাকে। এ সর্দি কাশির সমস্যা এক সময় সেরে গেলেও অনেক সময় গলায় এবং বুকে কফ জমে যায়। গলায় কফ জমলে আমাদের শ্বাসকষ্ট এবং অতিরিক্ত কাশি সহ আরও বিভিন্ন সমস্যায় পরতে হয়। তাই গলায় কফ জমলে আমরা তা দ্রুত নিরাময় করতে জানতে চাই গলার কফ দূর করার ট্যাবলেট এবং ঔষধ এর নাম সম্পর্কে।
গলার কফ দূর করার ট্যাবলেট এবং ব্যবহারের নির্দেশনা।
গলায় কফ জমলে আমাদের বেশ অস্বস্তি বোধ হয়ে থাকে। আমাদের সর্দি হলে এ থেকে ধীরে ধীরে বুকে কফ জমতে শুরু করে। কিছুদিনের মধ্যে সর্দি ভালো হয়ে গেলেও আমাদের বুকের মধ্যে জমা কফ থেকে যায়। যার ফলে আমাদের অতিরিক্ত শুকনো কাশি হয়ে থাকে।
গলায় কফ আটকে থাকার কারণ কি ?
গলায় কফ জমে বা আটকে থাকলে আমাদের বেশ অস্বস্তি বোধ হয়। সাধারণত সর্দি কাশি দীর্ঘ দিন থাকার কারনে এ সমস্যা গুলো হয়ে থাকে। তাছাড়াও গলায় কফ আটকে থাকার আরও বেশ কিছু কারন রয়েছে তা নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ভাইরাল ইনফেকশন দীর্ঘ দিন সর্দি কাশি লেগে থাকার কারনে সর্দিকাশি ভাইরাল নামের এক ধরনের ইনফেকশন গলার পিছনের দিনে মিউকাস জমিয়ে দেয়।যার ফলে গলায় কফ আটকে থাকে।
ধুমপান দীর্ঘদিন ধরে ধুমপান করার ফলে ফুসফুস এবং শ্বাসনালিতে ক্ষতিকর প্রভাব পরে। যার কারনে প্রথমে বুকে কফ জমতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে গলায়ও কফ হয়ে যায়। যার কারনে ধুমপানকারী ব্যক্তিদের অতিরিক্ত কাশি হয়ে থাকে।
ধুলো বালি ধুলো বালির কারনেও অনেক সময় গলায় এবং বুকে কফ জমে থাকে। ধুলো বালি জনিত রাস্তায় দীর সময় ধরে চলার কারনে রাস্তার ধুলো নিশ্বাসের মাধ্যমে ভিতরে প্রবেশ করে। এর ফলে গলায় এবং বুকে কফ জমতে পারে।
দীর্ঘ সময় ধরে শ্বাসকষ্ট থাকলে বুকে এবং গলার কফ জমার কারন হতে পারে। সাধারণত উল্লেখিত কারন গুলোর জন্যই গলায় কফ আটকে থাকে।
গলায় কফ জমার লক্ষণ কি ?
গলায় কফ জমলে তা বিভিন্ন লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ হয়ে থাকে। গলায় কফ জমার লক্ষণ গুলো নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
গলায় কফ জমার লক্ষণ গুলো হলো:
- গলায় কফ জমার কারনে গলায় তীব্র ব্যথা করা এবং গলায় ভার ভার অনুভব হয়।
- গলায় কফ জমলে অতিরিক্ত কাশি হয়ে থাকে।
- কখনো কখনো শুকনো কাশি এবং কখনো কখনো কফ যুক্ত কাশি হয়ে থাকে।
- গলায় কফ আটকে থাকলে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয় যার ফলে আমাদের শ্বাসকষ্ট কষ্ট হয়ে থাকে।
- গলায় কফ জমলে মুখের রুচি হৃাস হয়ে থাকে এবং মুখে খারাপ স্বাদের অনুভূতি হওয়া।
- দীর্ঘদিন গলায় কফ আটকে থাকলে মুখে গন্ধ অনুভূত হতে পারে।
- গলায় কফ জমলে অনেক সময় কন্ঠস্বরের পরিবর্তন হয়ে থাকে।
- গলায় কফ জমার কারনে গলার স্বর ভাঙা বা কন্ঠ ভাঙা হয়ে থাকে।
যদি কারো মধ্যে উল্লেখিত লক্ষণ গুলোর ২/১ টি প্রকাশ পায় তাহলে বুঝতে হবে তার গলায় কফ জমেছে। দীর্ঘদিন গলায় কফ জমে থাকলে তার প্রতিক্রিয়া মারাত্মক হতে পারে। তাই গলায় কফ জমলে অতিবিলম্বের ডাক্তারের সরণাপণ্য হতে হবে।
গলার কফ দূর করার ট্যাবলেট এর নাম।
বুকে কফ জমে থাকার কারনে তা কাশির মাধ্যমেও বের হয় না। এ থেকে ধীরে ধীরে গলায়ও কফ জমতে শুরু করে। গলায় কফ জমলে কাশির পরিমান আরও বেড়ে যায়। যার ফলে আমাদের বেশ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই আমাদের গলায় এবং বুকে কফ জমলে তা দ্রুত নিরাময় করতে চাই।
পড়ুন: গলা ব্যথার ট্যাবলেট এর নাম বাংলাদেশ
এটি দ্রুত নিরাময় করতে কিছু গলার কফ দূর করার ট্যাবলেট সেবন করতে পারেন। গলার কফ দূর করার সবচেয়ে দ্রুত সময়ে কার্যকরী কয়েকটি ট্যাবলেট নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো।
নিচে গলার কফ দূর করার ট্যবলেটের নাম গুলো উল্লেখ করা হলো:
- অ্যালকফ কফজেল ( Alkof Cofgel Tablet )
- মোকোলিট ( Mucolyt )
- লাইটেক্স এস আর ৭৫ এম জি ( Lytex SR 75 mg )
- টুসিলন ১০০ এম জি ( Tussilon 100 mg )
- মনোসেফ ও ২০০ মি.গ্রা. ( Monocef O 200 mg )
- ভিস্কোটিন ৬০০ এম জি ( Viscotin 600 mg )
উল্লেখিত এ ট্যাবলেট গুলো খুব দ্রুত সময়ে গলার এবং বুকের কফ দূর করতে বেশ কার্যকরী ঔষধ। গলায় এবং বুকে কফ জমলে উল্লেখিত ট্যাবলেট গুলোর যেকোন একটি সঠিক নিয়ম অনুযায়ী সেবন করতে পারেন তাহলে খুব দ্রুত কার্যকর ফলাফল পাবেন।তবে গলায় এবং বুকে কফ জমে শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এ ট্যাবলেট গুলো সেবন করতে হবে।
গলার কফ দূর করার ট্যাবলেটের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
গলার কফ দূর করার ট্যাবলেট সেবনে যেমন দ্রুত আরাম পাওয়া যায় এর পাশাপাশি কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা যেতে পারে।
কফ দূর করার ট্যাবলেটের কয়েকটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হলো:
- ত্বকে চুলকানি ও ফোস্কা পরা।
- হালকা মাথা ঘোরানো ও মাথা ব্যথা।
- ডায়রিয়া হওয়া।
- কারো কারো ক্ষেত্রে বমি হওয়া।
- রক্তচাপ কমে যাওয়া।
- মুখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া।
উল্লেখিত এ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো যথাসম্ভব কমাতে ট্যাবলেট গুলো সেবনের সঠিক নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে।
গলার কফ দূর করার উপায়।
এতোক্ষণ আমরা জেনেছি গলার কফ দূর করার ট্যাবলেট এবং গলায় কফ জমার লক্ষণ কি ইত্যাদি সম্পর্কে। এখন আমরা জানবো গলার কফ দূর করার উপায় সম্পর্কে। গলার কফ ঔষধের পাশাপাশি ঘরোয়া বিভিন্ন পদ্ধতিতে দূর করা যায়। এ উপায় গুলো নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
নিচে গলার কফ দূর করার উপায় গুলো উল্লেখ করা হলো:
গার্গল করা
গলায় কফ জমলে লবন এবং গরম পানি দিয়ে গার্গল করা। লবন এবং গরম পানি দিয়ে গার্গল করলে গলায় জমে থাকা কফ নরম হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে তা কাঁশির সাথে বের হয়ে আসে।
মধু এবং লেবু মিশ্রন
গলায় কফ জমলে মধু এবং লেবু মিশ্রন করে সেবন করলে এটি গলার জন্য বেশ উপকারী। কেননা এটি গলায় জমে থাকা কফ পাতলা করে এবং তা কাশির সাথে বের হতে শুরু করে।
আদা চা
গলায় কফ জমলে তা নিরাময় করতে আদার চা বেশ কার্যকরী। আদা চা খাওয়ার ফলে গলা ব্যথা কমে যায়। যার স্বস্তি বোধ হয় এবং এর পাশাপাশি গলার কফ পাতলা করে তোলে।
গরম পানির সেক
গলায় কফ হলে গরম পানির সেক এটিও কফ দূর করতে বেশ কার্যকরী। গরম পানির সেক নিলে গলার কফ পাতলা হয়ে যায় । যদি শ্বাসকষ্ট থাকে তাহলে তা স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
উল্লেখিত পদ্ধতি গুলো ৪-৫ দিন প্রয়োগ করলে সহজেই গলার কফ দূর হয়ে যাবে।
গলার কফ দূর করার ট্যাবলেট এর দাম।
এতোক্ষণ আমরা জেনেছি গলার কফ দূর করার ট্যাবলেট এর নাম সম্পর্কে। এখন আমারা জানবো গলার কফ দূর করার ট্যাবলেটের দাম সম্পর্কে।
উল্লেখিত গলার কফ দূর করার ট্যাবলেটের দাম নিচে উল্লেখ করা হলো:
- অ্যালকফ কফজেল: একটি অ্যালকফ কফজেল ট্যাবেলেটের মূল্য ৭ টাকা এবং এক পাতার মূল্য ৭০ টাকা।
- মোকোলিট: একটি মোকোলিট ট্যাবলেটের মূল্য ২ টাকা এবং এক পাতার মূল্য ২০ টাকা।
- লাইটেক্স এস আর ৭৫ এম জি: এর একটি ট্যাবলেটের মূল্য ৫.৫০ টাকা এবং এক পাতার মূল্য ৫০ টাকা।
- টুসিলন ১০০ এম জি: একটি টুসিলন ১০০ এম জি ট্যাবলেটের মূল্য ১০ টাকা এবং এক পাতার মূল্য ১০০ টাকা।
- মনোসেফ ও ২০০ এম জি: একটি মনোসেফ ট্যাবলেটের মূল্য ১৮ টাকা এবং এক পাতার মূল্য ১৮০ টাকা।
- ভিস্কোটিন ৬০০ এম জি: একটি ভিস্কোটিন ট্যাবলেটের মূল্য ২০ টাকা এবং এক পাতার মূল্য ২০০ টাকা।
উল্লেখিত এ কফ দূর করার ট্যাবলেট গুলো যেকোন দোকানে বা ফার্সিতে পেয়ে যাবেন। কফ দূর করার উল্লেখিত এ ট্যাবলেট গুলোর মূল্য স্থান এবং সময় বেধে কিছুটা আলাদা হতে পারে।
গলার কফ দূর করার ট্যাবলেট এর ব্যবহার বিধি।
যেকোনো ঔষধের কার্যকরী ফলাফল পেতে সে ঔষধের সঠিক ব্যবহার করতে হয়। গলার কফ দূর করার ট্যাবলেটও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই এখন আমরা জানবো উল্লেখিত গলার কফ দূর করার ট্যাবলেট এর ব্যবহার বিধি সম্পর্কে।
উল্লেখিত ঔষধ গুলোর ব্যবহার বিধি নিচে তুলে ধরা হলো:
- অ্যালকফ কফজেল ( Alkof Cofgel Tablet ): প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দিনে দু’বার অ্যালকফ কফজেল ট্যাবেলটি সেবন করতে হবে এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দিনে একবার সেবন করতে হবে।
- মোকোলিট ( Mucolyt ): মোকোলিট এ ট্যাবলেটটি প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে দিনে তিন বেলা এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দিনে দু’বেলা সেবন করতে হবে। এ ট্যাবলেটটি পুরোপুরি কফ বের হওয়া পর্যন্ত সেবন করতে হবে।
- লাইটেক্স এস আর ৭৫ এম জি ( Lytex SR 75 mg ): লাইটেক্স এস আর ৭৫ এম জি এ ট্যাবলেটটি প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দিনে তিনবার সেবন করতে হবে এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দিনে ২-৩ বার সেবন করতে হবে।
- টুসিলন ১০০ এম জি ( Tussilon 100 mg ): টুসিলন ১০০ এম জি এ ট্যাবলেটটি প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দিনে দু’বেলা সেবন করতে হবে এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দিনে ১-২ বার সেবন করতে হবে।
- মনোসেফ ও সি ভি ২০০ মি.গ্রা. ( Monocef O CV 200 mg ): মনোসেফ ও ২০০ মি.গ্রা. প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দিনে একটি ট্যাবলেট সেবন করতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এ ট্যাবলেটটি সেবন করার পূর্ব ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
- ভিস্কোটিন ৬০০ এম জি ( Viscotin 600 mg ): ভিস্কোটিন ৬০০ এম জি প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দিনে একটি ট্যাবলেট সেবন করতে হবে এবং এ ট্যাবলেটিও বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সেবন করার পূর্ব ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
ট্যাবলেট গুলোর উল্লেখিত ব্যবহার বিধি গুলো ডাক্তার দ্বারা নির্দেশিত। তাই এ ব্যবহার বিধি গুলো মেনে ট্যাবলেট সেবন করলে দ্রুত গলার এবং বুকের কফ বের হতে শুরু করবে।