জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের নাম বাংলাদেশ এবং ব্যবহারের নির্দেশনা।

জ্বর আমাদের ছোট বড় সকলের কাছেই বেশ পরিচিত একটি অসুখ। জ্বর একটি সাধারণ অসুখ হলেও কোনো কোনো সময় এটি বেশ ভয়াবহ হয়ে থাকে। তাই জ্বর হলে আমাদের সকলকে সঠিক পরিচর্যা এবং ঔষধ গ্রহনের মাধ্যমে এটি নিরাময়ের চেষ্টা করতে হবে। জ্বর হলে আমরা এ রোগটি থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে ঔষধ সেবন করতে চাই। তাই আমরা অনেকেই জানতে চাই জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের নাম বাংলাদেশ সম্পর্কে।

Table of Contents

জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের নাম বাংলাদেশ ।

জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের নাম বাংলাদেশ

বাচ্চাদের জ্বর সাধারণত শরীরে বিভিন্ন সংক্রমণের প্রতিক্রিয়া যা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে গুরুতর একটি কারণ হতে পারে। বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনার অনেক দুর্বল যার ফলে সহজেই ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। বাচ্চাদের জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে নিউমোনিয়া এবং টাইফয়েডের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত হতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রায় খিঁচুনি, ডিহাইড্রেশন বা আচরণগত পরিবর্তন ঘটতে পারে। বিশেষ করে ৩ মাসের কম বয়সী শিশুদের জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

জ্বর হলে কেন অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করতে হয় ?

সাধারণত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে জ্বর। জ্বর হলে সাধারণ কিছু ঔষধ যেমন প্যারাসিটামল খেলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে জ্বর সেরে যায়। তবে যদি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে জ্বর হয়, তখন জ্বর সারাতে জ্বরের এন্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয়। এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে বা তাদের বৃদ্ধি বন্ধ করে দেয়, যার ফলে সংক্রমণ কমে এবং জ্বরও দ্রুত সেরে যায়। তবে জ্বর হলে এন্টিবায়োটিক সেবনের পূর্বে অবশ্যই জ্বরের তীব্রতা পর্যবেক্ষণ করতে হবে, এবং তীব্রতা মাত্রাতিরিক্ত হলে এন্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে।

জ্বর হলে এন্টিবায়োটিক কখন খেতে হবে ?

জ্বর হলেই এন্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়, কেননা সব জ্বর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে হয় না। সাধারণত ভাইরাসজনিত জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। তবে যদি ডাক্তার বলেন যে জ্বরটি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে হয়েছে যেমন: টনসিলাইটিস, নিউমোনিয়া বা ইউরিন ইনফেকশন তাহলে জ্বরের এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া জ্বর ৩-৪ দিনের বেশি স্থায়ী হলে এবং জ্বরের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে এন্টিবায়োটিক গ্রহন করতে পারেন। জ্বর হলে তা নিরাময় করতে এন্টিবায়োটিক ঔষধ অবশ্যই নিয়ম অনুযায়ী সেবন করতে হবে।

জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের নাম।

জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের নাম বাংলাদেশ

সাধারণত যখন আমাদের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে জ্বর হয়ে থকে তখন জ্বরের সাধারণ ঔষধ গুলো সেবন করেও জ্বর নিরাময় করা যায় না। তখন প্রয়োজন হয় জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের। তাই আমরা জানতে চাই জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের নাম বাংলাদেশ সম্পর্কে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কয়েকটি জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের নাম বাংলাদেশ সম্পর্কে।

নিচে কয়েকটি জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের নাম উল্লেখ করা হলো:

  1. Ciprocin 500 mg – সিপ্রোসিন ৫০০ মি.গ্রা.
  2. Cef-3 200 mg – সেফ-৩ ২০০ মি.গ্রা.
  3. Clavurox 500 – ক্ল্যাভুরক্স ৫০০
  4. Neofloxin 500 – নিউফ্লক্সিন ৫০০
  5. Amoxicillin – অ্যামোক্সিসিলিন
  6. Doxycycline – ডক্সিসাইক্লিন
  7. Zimax 500 mg – জিম্যাক্স ৫০০ মি.গ্রা.
  8. Zimax 250 mg – জিম্যাক্স ২৫০ মি.গ্রা.
  9. Azin 500 mg – এ্যাজিন ৫০০ মি.গ্রা.
  10. Adiz 500 mg – এডিজ ৫০০ মি.গ্রা.

জ্বর হলে উল্লেখিত এন্টিবায়োটিক গুলোর যেকোন একটি নিয়ম অনুযায়ী সেবন করলে খুব দ্রুত জ্বর নিরাময় হয়ে যাযে।

জ্বরের এন্টিবায়োটিক খাওয়ার নিয়ম এবং মূল্য ।

উপরে আমরা জেনেছি জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের নাম বাংলাদেশ সম্পর্কে এখন আমরা জানবো উল্লেখিত জ্বরের এন্টিবায়োটিক খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে। একটি ঔষধের পূর্ণাঙ্গ কার্যকরীতা পাওয়া যায় সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে। চলুন তাহলে জেনে নিই জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধ খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে।

জ্বরের এন্টিবায়োটিক খাওয়ার নিয়ম গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • Ciprocin 500 mg : সিপ্রোসিন এ ট্যাবলেটি  দিনে দু’বার সেবন করতে হবে। সিপ্রোসিন এক পাতার মূল্য ১৫০ টাকা।
  • Cef-3 200 mg : সেফ-৩ সিপ্রোসিন এ ট্যাবলেটি  প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে  দিনে একটি ট্যবলেট সেবন করতে হবে।এক পাতা বা ৭ টি ট্যাবলেটের মূল্য ২৩৫ টাকা।
  • Clavurox 500 : ক্ল্যাভুরক্স এই ট্যাবলেটটি প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দৈনিক একটি ট্যাবলেট রাতে খাওয়ার পরে সেবন করতে হবে। এক পাতা বা ৭ টি ট্যাবলেটের মূল্য ৪২০ টাকা।
  • Neofloxin 500 : নিউফ্লক্সিন এটি দৈনিক দুটি ট্যাবলেট সকালে ও রাতে সেবন করতে হবে এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দৈনিক একটি ট্যাবলেট রাতে সেবন করতে হবে। এক পাতার মূল্য ১৫০ টাকা।
  • Amoxicillin : অ্যামোক্সিসিলিন এ ট্যাবলেটটি দৈনিক দু’বার সকালে ও রাতে সেবন করতে হবে । এক পাতা বা ১০ টি ট্যাবলেটের মূল্য ৫৫ টাকা।
  • Doxycycline : ডক্সিসাইক্লিন এই ট্যাবলেটটি প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দৈনিক ১/২টি ট্যাবলেট সেবন করতে হবে।
  • ডক্সিসাইক্লিন এক পাতা বা ১০ টি ট্যাবলেটের মূল্য ৪৫ টাকা।
  • Zimax 500 mg : জিম্যাক্স এই ট্যাবলেটটি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দৈনিক ১টি ট্যাবলেট সেবন করতে হবে। ১ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে জিম্যাক্স নিষিদ্ধ। জিম্যাক্স ১ পাতা বা ৬টি ট্যাবলেটের মূল্য ২৪০ টাকা।
  • Zimax 250 mg : জিম্যাক্স ২৫০ এই ট্যাবলেটটি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দৈনিক ২টি ট্যাবলেট সকালেও রাতে সেবন করতে হবে। এর এক পাতা বা ৬ টি ট্যাবলেটের মূল্য ১৪৮ টাকা।
  • Azin 500 mg : এ্যাজিন এটি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দিনে একটি ট্যাবলেট সেবন করতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এ্যাজিন ব্যবহারের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সেবন করতে হবে।  এর ৬টি ট্যাবলেট বা এক পাতার মূল্য ৩২০ টাকা।
  • Adiz 500 mg : এডিজ এই ট্যাবলেটটিও প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য দিনে একটি ট্যাবলেট সেবন করতে হবে। এর ৪টি ট্যাবলেট বা এক পাতার মূল্য ১৮০ টাকা।

জ্বরের এন্টিবায়োটিক এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ।

এন্টিবায়োটিক যেমন দ্রুত রোগ সারাতে বেশ কার্যকরী হয় তার পাশাপাশি সে এন্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও প্রতিফলিত হয়। সাধারনত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে কোন ঔষধের অতিরিক্ত ব্যবহার বা নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার না করার ফলে।

জ্বরের এন্টিবায়োটিক গুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আমাদের শরীরে তেমন ক্ষতিকর প্রভাব না ফেললেও আমাদের সতর্ক হওয়া জরুরি। এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। চলুন তাহলে জেনে নিই জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের নাম বাংলাদেশ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো সম্পর্কে।

জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া।
  • শরীর দূর্বল হয়ে যাওয়া।
  • পেট খারাপ বা ডায়রিয়া হওয়া।
  • হালকা মাথা ঘোরানো।
  • হালকা হালকা মাথা ব্যাথা করা।
  • খাবারের প্রতি অনিহা হতে পারে।
  • পেটে ব্যাথা হওয়া।
  • কোনো কোনো সময় ভমি হওয়া।

সাধারণত জ্বরের এন্টিবায়োটিক সেবনের পরে উল্লেখিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলে লক্ষ্য করা যায়। এন্টিবায়োটিক সেবনের পর এ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো রোগ করতে বেশি বেশি পানি পান করুন।

ঘরোয়া উপায়ে জ্বর কমানোর কিছু কার্যকর পদ্ধতি।

জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের নাম

জ্বর হলে ঔষধের পাশাপাশি ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি যেগুলো অনুসরণ করলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায় ও জ্বর নিরাময় করা যায়

নিচে ঘরোয়া উপায়ে জ্বর কমানোর ৫টি কার্যকর উপায় দেওয়া হলো:

ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর মুছা
জ্বরের কারনে শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়, তাই ঠান্ডা পানিতে একটি রুমাল বা তোয়ালে ভিজিয়ে তা দিয়ে কপাল, গলা ও হাত-পা মুছে নিন এবং কপালে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখুন। এভাবে ঠান্ডা পনিতে কাপর ভিজিয় স্পঞ্জ করলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে এবং আরাম পাওয়া যায়।

পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার পান
জ্বরের সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে ও ডিহাইড্রেশন এড়াতে প্রচুর পানি, ডাবের পানি ও গরম স্যুপ পান করা জরুরি। এটি জ্বরের সময় শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক করতে এবং জ্বর কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী।

তুলসী পাতা ও মধু
জ্বর হলে তা নিরাময় করতে তুলসী পাতার রস এবং মধু বেশ উপকারী। তুলসী পাতার রস ও মধু একসঙ্গে খেলে সংক্রমণ কমে ও জ্বর দ্রুত কমতে সাহায্য করে।

আদা-লেবু চা
আদা ও লেবুর চা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। যার ফলে দ্রুত আরাম দেয় পাওয়া যায় এবং জ্বর কমগে শুরু করে।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও হালকা পোশাক পরিধান
শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধারে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং শরীরের মধ্যে গরম না লাগে এমন হালকা পোশাক পরুন। জ্বরের সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার গ্রহন করুন।

জ্বর হলে উল্লেখিত এই ঘরোয়া পদ্ধতি গুলো মেনে চললে জ্বর দ্রুত সেরে যায়। তবে জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ বা এন্টিবায়োটিক গ্রহন করতে হবে।

ভাইরাস জ্বরের এন্টিবায়োটিক ।

এতোক্ষণ আমরা জেনেছি জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের নাম বাংলাদেশ এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে। এখন আমরা জানবো ভাইরাস জ্বরের এন্টিবায়োটিক কোন গুলো ইত্যাদি সম্পর্কে। ইতিমধ্যে আমরা আলোচনা করেছি জ্বরের এন্টিবায়োটিক গুলো সম্পর্কে।

এই এন্টিবায়োটিক গুলোই মূলত ভাইরাস জ্বর নিরাময় করতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তার মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত কার্যকরী কয়েকটি এন্টিবায়োটিকের নাম নিচে তুলে ধরা হয়েছে।

ভাইরাস জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধ গুলো হলো:

  1. সেফ-৩ ২০০ মি.গ্রা. ( Cef-3 200 mg )
  2. সেফিক্সিম ২০০ মি.গ্রা. ( Cefixime 200 mg )
  3. এডিজ ৫০০ মি.গ্রা. ( Adiz 500 mg )
  4. এ্যাজিন ৫০০ মি.গ্রা. ( Azin 500 mg )
  5. জিম্যাক্স ৫০০ মি.গ্রা. ( Zimax 500 mg )
  6. ক্ল্যাভুরক্স ৫০০ ( Clavurox 500 )
  7. ব্যাকটিন ৭৫০ মি.গ্রা. ( Bactin 750 mg )

উল্লেখিত এই এন্টিবায়োটিক ঔষধ গুলো ভাইরাস জ্বর দ্রুত সময়ে নিরাময় করতে বেশ কার্যকরী হয়ে থাকে। মনে রাখতে হবে উল্লেখিত ঔষধ গুলো অবশ্যই নিয়ম অনুযায়ী সেবন করতে হবে।

জ্বরের এন্টিবায়োটিক সিরাপ এর নাম।

জ্বরের এন্টিবায়োটিক সিরাপ সাধারণত শিশু বাচ্চা এবং অতি বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। জ্বরের এন্টিবায়োটিক সিরাপ গুলো সাধারণত ১ বছরের কম বয়সীদের শিশুদের ক্ষেত্রে সেবন করানো হয়ে থাকে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক জ্বরের এন্টিবায়োটিক সিরাপ গুলো সম্পর্কে।

নিচে জ্বরের এন্টিবায়োটিক সিরাপ এর নাম গুলো উল্লেখ করা হলো:

  1. Zimax 50 ml – জিম্যাক্স ৫০ মিলি.
  2. Cef-3 75 ml – সেফ-৩ ৭৫ মিলি.
  3. Cefixime 50 ml – সেফিক্সিম ৫০ মিলি.
  4. Adiz 50 ml – এডিজ ৫০ মিলি.
  5. Cefim-3 75 ml – সেফিম-৩ ৭৫ মিলি.
  6. Clavurox 50 ml – ক্ল্যাভুরক্স ৫০ মিলি.
  7. Azin 50 ml – এ্যাজিন ৫০ মিলি.
  8. Fix-A 75 ml – ফিক্স-এ ৭৫ মিলি.

উল্লেখিত জ্বরের এন্টিবায়োটিক সিরাপ গুলো খুব দ্রুত সময়ে জ্বর নিরাময় করতে বেশ কার্যকরী হয়ে থাকে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে যেকোনো ঔষধ প্রয়েগের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের নাম বাংলাদেশ ।

জ্বর হলে কি এন্টিবায়োটিক খাওয়া যায় ?

উপরে আমরা জেনেছি জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের নাম বাংলাদেশ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। এখন আমরা জানবো জ্বর হলে কি শুরুতেই এন্টিবায়োটিক খাওয়া যায় কিনা ইত্যাদি সম্পর্কে। যদি আপনার জিজ্ঞাসা হয়ে থাকে যে জ্ব হলে শুরুতেই এন্টিবায়োটিক খাওয়া যায় কিনা তার উত্তর হলো না।

জ্বরের শুরুতেই এন্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। কেননা এন্টিবায়োটিকে বিভিন্ন রকমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। জ্বর হলে শুরুতেই ঘরোয়া সাধারণত চিকিৎসা গ্রহন করুন। এরপর জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ রয়েছে সেগুলো সেবন করুন।

এই ঔষধ গুলো সেবনের তিন পরও যদি জ্বর থাকে সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে জ্বরের এন্টিবায়োটিক সেবন করুন। জ্বরের এন্টিবায়োটিক সেবনের পর পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।

FAQ

জ্বর হলে কি অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত?

উত্তর: জ্বর হলে শুরুতেই এন্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। জ্বর যদি ৩ দিনের বেশি স্থায়ী হয় এবং ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের ফলে হয় তবে জ্বরের এন্টিবায়োটিক গ্রহন করতে হবে।

ভাইরাস জ্বরের সবচেয়ে ভালো ঔষধ কোনটি?

উত্তর: যদিও ভাইরাস জ্বরের নির্দিষ্ট কোনো ঔষধ নেই, তবে সম্প্রতি সময়ে বাজারে ভাইরাস জ্বরের বেশ কয়েকটি এন্টিবায়োটিক পাওয়া যায়। যেমন: সেফ ৩ ২০০ মি.গ্রা., সেফিক্সিন ২০০ মি.গ্রা. এবং জিম্যাক্স ৫০০ মি.গ্রা. ইত্যাদি।

জ্বরের জন্য অ্যাজিথ্রোমাইসিন কি কাজ করে ?

উত্তর: অ্যাজিথ্রোমাইসিন একটি এন্টিবায়োটিক, যা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে ফলে হওয়া বরের ক্ষেত্রে কার্যকর। ভাইরাসজনিত জ্বরের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত কার্যকর নয়।

জ্বর সর্দি হলে কোন এন্টিবায়োটিক ভালো ?

উত্তর: সাধারণ ভাইরাসজনিত জ্বর ও সর্দির জন্য এন্টিবায়োটিক এর প্রয়োজন পরে না। তবে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ থেকে জ্বর হলে এই পোস্টে উল্লেখিত যেকোনো একটি এন্টিবায়োটিক সেবন করতে পারেন।

ভাইরাস জ্বর কি ৫ দিন থাকতে পারে ?

উত্তর: হ্যাঁ, সাধারণত ভাইরাসজনিত জ্বর ৩-৭ দিন থাকতে পারে। তবে কোনো কোনো সময় ব্যক্তি বেধে তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

জ্বরের অ্যান্টিবায়োটিকের ডোজ কত দিনের?

উত্তর: ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণের ফলে হওয়া জ্বরের জন্য এন্টিবায়োটিক সাধারণত ৫-৭ দিন খেতে হয়। তবে ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী ডোজ পরিবর্তিত হতে পারে।

শেষ কথা

উপরে আমরা জেনেছি জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের নাম বাংলাদেশ সম্পর্কে। এই এন্টিবায়োটিক গুলো জ্বরের শুরুতেই খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। জ্বর হলে ৩-৪ দিন প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ সেবন ও ঘরোয়া উপায়ে জ্বর নিরাময় করার চেষ্টা করতে হবে। যদি ৪ দিনের বেশি জ্বর স্থায়ী হয় তবে জ্বরের যেকোনো একটি এন্টিবায়োটিক নিয়ম অনুযায়ী সেবন করতে হবে। যদি আপনি জ্বরের শুরুতেই বুঝতে পারেন যে আপনার ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ফলে জ্বর হয়েছে তবে শুরুতেই এন্টিবায়োটিক গ্রহন করতে পারেন। পোস্টটি পড়ে উপকৃত হলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন, ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top